রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

ঝিনুকের ভিতর মুক্তা মিলবে কক্সবাজারে

আবদুল আজিজ:

বিশাল সাগরে ডুব দিয়ে ঝিনুক থেকে মুক্তা আনতে হবে না আর, এখন খুব সহজে ঝিনুকের ভিতর মুক্তা মিলবে কক্সবাজারে। নির্মাণশৈলী কারুকাজ চলমান থাকায় এতদিন দেখা গেলেও আজ প্রধানমন্ত্রী রেলপথ উদ্বোধনের পর এই ভাস্কর্যটি ভিন্নরূপে পূর্ণতা পাচ্ছে।

ঝিনুকাকৃতির দৃষ্টিনন্দন এ ঝিনুক ভাস্কর্যটি ভেতরে রয়েছে মুক্তা। যাত্রীরা ঝিনুক ফোয়ারা দিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করবেন। তারপর চলন্ত সিঁড়ির মাধ্যমে পদচারী–সেতু হয়ে উঠবেন ট্রেনে। আবার ট্রেন থেকে নেমে ভিন্ন পথে বেরিয়ে যাত্রীরা ছুটবেন পর্যটনশহরে। ভবনের পূর্ব পাশে ৮০ ফুট লম্বা পদচারী–সেতু। এর সঙ্গে পৃথক তিনটি চলন্ত সিঁড়ি। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ভবনের উত্তরে ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ মিটার প্রস্থের তিনটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। সেখানে অপেক্ষামান যাত্রীদের জন্য বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেলওয়ে প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলেন,মূল ভবনের নিচতলায় থাকবে টিকিট কাউন্টার, অভ্যর্থনাকক্ষ, লকার, তথ্যকেন্দ্র, মসজিদ, শিশুদের বিনোদনের জায়গা, পেসেঞ্জার লাউঞ্জ ও পদচারী–সেতুতে যাতায়াতের পথ। দ্বিতীয় তলায় থাকবে শপিং মল, শিশুযত্নকেন্দ্র, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি। তৃতীয় তলায় ৩৯ কক্ষবিশিষ্ট তারকামানের হোটেল, চতুর্থ তলায় রেস্তোরাঁ, শিশুযত্নকেন্দ্র, কনফারেন্স হল ও কর্মকর্তাদের কার্যালয়।

ঝিনুক আকৃতির দেশের প্রথম আইকনিক এই রেলস্টেশনেই সাগরের গ্রাণ পাবে পর্যটকরো।আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় ভরপুর,অনন্য নিমাণ শৈলীতে গড়ে তোলা স্টেশনটি দেখলেই পর্যটকদের মন মজবে। দেশি-বিদেশী পর্যটকদের আন্তর্জাতিকমানের সব ধরনের সুবিধা রেখেই এই স্টেশন নিমাণ করা হয়। কক্সবাজার শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজিপাড়ায় ঝিনুক স্টেশন। ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম থেকে সকালে ট্রেনে উঠে দুপুরে কক্সবাজারে নেমে সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি শেষে যে কেউ রাতের ট্রেনে আবার ফিরতে পারবেন। এ জন্য মূল্যবান জিনিসপত্র স্টেশনের লকারে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ থাকতে চাইলে থাকার ব্যবস্থাও আছে। গত ৭ নভেম্বর দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে প্রথম ট্রেন কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনে এসেছে। ওইদিন সন্ধ্যায় হুইসিল বাজিয়ে ৮টি বগি নিয়ে প্রথম ট্রেনটি যখন ঢুকছিল তখন ঝিনুক স্টেশনে ট্রেন আসার অপেক্ষার শেষ হয় কক্সবাজারবাসীর। আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই স্টেশন প্রাঙ্গনে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের উদ্বোধন করবেন। সমুদ্রসৈকত থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ২৯ একর জমির ওপর সামুদ্রিক ঝিনুকের আদলে নির্মিত দেশের একমাত্র আইকনিক রেলস্টেশন। ব্যয় হয়েছে ২১৫ কোটি টাকা। রেলস্টেশন ভবনটি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭ বর্গফুটের। সারা বিশ্বের পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামোর পাশাপাশি একজন পর্যটককে যেন ভ্রমণ-সংক্রান্ত কোনো জটিলতায় পড়তে না হয়, বেড়াতে এসে বাড়তি খরচ না করতে হয়, সেসব দিকে লক্ষ রেখেই বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে। রেলওয়ে স্টেশনটি নির্মাণের পর পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন ৪৬ হাজার যাত্রী কক্সবাজারে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, ছয়তলা বিশিষ্ট স্টেশনটি নির্মাণে চীন, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক স্টেশনের সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পটিতে ১১০ জন বিদেশিসহ মোট ২৫০ জন প্রকৌশলী এবং ছয় শতাধিক লোক কাজ করছে। চার বছরের শ্রমে আইকনিক রেলস্টেশন ভবনটি দৃশ্যমান হয়েছে।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION